দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করেছে প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসী। হঠাৎ এই নজিরবিহীন ঢলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের কর্মকর্তাদের ধারণা, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাজারো মানুষ সাঁতরে শহরটিতে প্রবেশ করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতভরও সীমান্ত অতিক্রম অব্যাহত ছিল।

এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছে, সেউতা বা আরেক স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিয়ার উদ্দেশে সমুদ্রপথে যাত্রার সময় আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।
মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০। ফলে মাত্র এক দিনে সেখানে প্রবেশ করা অভিবাসীর সংখ্যা শহরের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেউতা ও মেলিয়ায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সময়ে মেলিয়াতেও রাতারাতি আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জন অভিবাসী প্রবেশ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অন্তত সাত হাজারই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মধ্যে নারী, শিশু এবং নবজাতকও রয়েছে।
সাধারণত সেউতায় ঢুকতে অভিবাসীদের উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার সাঁতরে আসতে হয়। তবে এবার অনেকেই সীমান্তঘেঁষা এলাকায় প্রায় বাধাহীনভাবে পৌঁছে যান। কেন মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা তাদের ঠেকাতে পারেনি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রয়টার্সকে এক অভিবাসী বলেন, তিনি মরক্কোয় ফিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এটা মোটেও ভালো নয়। এখানে মানুষ মারা যাচ্ছে। যারা এখনো আসেননি, তাদের বলছি—দয়া করে আসবেন না।’
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকস্মিক এই ঢলে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
২০২১ সালের পর এটিই সেউতায় সবচেয়ে বড় অভিবাসী সংকট। সে সময় পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে স্পেনের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের জেরে মরক্কো প্রায় আট হাজার মানুষকে সীমান্ত পার হতে দিয়েছিল।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফেরত পাঠাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে শুক্রবার সেউতা সফরের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের।

এদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সেউতার পরিস্থিতিকে ‘বিস্ময়কর’ উল্লেখ করে এটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তার বক্তব্যের জবাবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেন, এমন মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য ‘অনুপযুক্ত’ এবং ইউরোপীয় সংহতির পরিপন্থী।
সূত্র: বিবিসি
কেএম